পনারগাঁও, বাংলাদেশ info@al-islah.com
📖 সূরা ভিউ

An-Najm سُورَةُ النَّجۡمِ

এই সূরার সকল আয়াত বাংলা অর্থসহ নিচে দেখানো হলো

সব সূরা দেখুন
আয়াত 1
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَـٰنِ ٱلرَّحِیمِ وَٱلنَّجۡمِ إِذَا هَوَىٰ
নক্ষত্রের কসম, যখন অস্তমিত হয়।
আয়াত 2
مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمۡ وَمَا غَوَىٰ
তোমাদের সংগী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি।
আয়াত 3
وَمَا یَنطِقُ عَنِ ٱلۡهَوَىٰۤ
এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না।
আয়াত 4
إِنۡ هُوَ إِلَّا وَحۡیࣱ یُوحَىٰ
কোরআন ওহী, যা প্রত্যাদেশ হয়।
আয়াত 5
عَلَّمَهُۥ شَدِیدُ ٱلۡقُوَىٰ
তাঁকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী ফেরেশতা,
আয়াত 6
ذُو مِرَّةࣲ فَٱسۡتَوَىٰ
সহজাত শক্তিসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে প্রকাশ পেল।
আয়াত 7
وَهُوَ بِٱلۡأُفُقِ ٱلۡأَعۡلَىٰ
উর্ধ্ব দিগন্তে,
আয়াত 8
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ
অতঃপর নিকটবর্তী হল ও ঝুলে গেল।
আয়াত 9
فَكَانَ قَابَ قَوۡسَیۡنِ أَوۡ أَدۡنَىٰ
তখন দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম।
আয়াত 10
فَأَوۡحَىٰۤ إِلَىٰ عَبۡدِهِۦ مَاۤ أَوۡحَىٰ
তখন আল্লাহ তাঁর দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার, তা প্রত্যাদেশ করলেন।
আয়াত 11
مَا كَذَبَ ٱلۡفُؤَادُ مَا رَأَىٰۤ
রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে।
আয়াত 12
أَفَتُمَـٰرُونَهُۥ عَلَىٰ مَا یَرَىٰ
তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে?
আয়াত 13
وَلَقَدۡ رَءَاهُ نَزۡلَةً أُخۡرَىٰ
নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল,
আয়াত 14
عِندَ سِدۡرَةِ ٱلۡمُنتَهَىٰ
সিদরাতুলমুন্তাহার নিকটে,
আয়াত 15
عِندَهَا جَنَّةُ ٱلۡمَأۡوَىٰۤ
যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত।
আয়াত 16
إِذۡ یَغۡشَى ٱلسِّدۡرَةَ مَا یَغۡشَىٰ
যখন বৃক্ষটি দ্বারা আচ্ছন্ন হওয়ার, তদ্দ্বারা আচ্ছন্ন ছিল।
আয়াত 17
مَا زَاغَ ٱلۡبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ
তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয় নি এবং সীমালংঘনও করেনি।
আয়াত 18
لَقَدۡ رَأَىٰ مِنۡ ءَایَـٰتِ رَبِّهِ ٱلۡكُبۡرَىٰۤ
নিশ্চয় সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে।
আয়াত 19
أَفَرَءَیۡتُمُ ٱللَّـٰتَ وَٱلۡعُزَّىٰ
তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে।
আয়াত 20
وَمَنَوٰةَ ٱلثَّالِثَةَ ٱلۡأُخۡرَىٰۤ
এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?
আয়াত 21
أَلَكُمُ ٱلذَّكَرُ وَلَهُ ٱلۡأُنثَىٰ
পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য?
আয়াত 22
تِلۡكَ إِذࣰا قِسۡمَةࣱ ضِیزَىٰۤ
এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন।
আয়াত 23
إِنۡ هِیَ إِلَّاۤ أَسۡمَاۤءࣱ سَمَّیۡتُمُوهَاۤ أَنتُمۡ وَءَابَاۤؤُكُم مَّاۤ أَنزَلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلۡطَـٰنٍۚ إِن یَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَمَا تَهۡوَى ٱلۡأَنفُسُۖ وَلَقَدۡ جَاۤءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ ٱلۡهُدَىٰۤ
এগুলো কতগুলো নাম বৈ নয়, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের রেখেছ। এর সমর্থনে আল্লাহ কোন দলীল নাযিল করেননি। তারা অনুমান এবং প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে।
আয়াত 24
أَمۡ لِلۡإِنسَـٰنِ مَا تَمَنَّىٰ
মানুষ যা চায়, তাই কি পায়?
আয়াত 25
فَلِلَّهِ ٱلۡـَٔاخِرَةُ وَٱلۡأُولَىٰ
অতএব, পরবর্তী ও পূর্ববর্তী সব মঙ্গলই আল্লাহর হাতে।
আয়াত 26
۞ وَكَم مِّن مَّلَكࣲ فِی ٱلسَّمَـٰوَ ٰ⁠تِ لَا تُغۡنِی شَفَـٰعَتُهُمۡ شَیۡـًٔا إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ أَن یَأۡذَنَ ٱللَّهُ لِمَن یَشَاۤءُ وَیَرۡضَىٰۤ
আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন, অনুমতি না দেন।
আয়াত 27
إِنَّ ٱلَّذِینَ لَا یُؤۡمِنُونَ بِٱلۡـَٔاخِرَةِ لَیُسَمُّونَ ٱلۡمَلَـٰۤىِٕكَةَ تَسۡمِیَةَ ٱلۡأُنثَىٰ
যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাকে নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে।
আয়াত 28
وَمَا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٍۖ إِن یَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّۖ وَإِنَّ ٱلظَّنَّ لَا یُغۡنِی مِنَ ٱلۡحَقِّ شَیۡـࣰٔا
অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমানের উপর চলে। অথচ সত্যের ব্যাপারে অনুমান মোটেই ফলপ্রসূ নয়।
আয়াত 29
فَأَعۡرِضۡ عَن مَّن تَوَلَّىٰ عَن ذِكۡرِنَا وَلَمۡ یُرِدۡ إِلَّا ٱلۡحَیَوٰةَ ٱلدُّنۡیَا
অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ এবং কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে তার তরফ থেকে আপনি মুখ ফিরিয়ে নিন।
আয়াত 30
ذَ ٰ⁠لِكَ مَبۡلَغُهُم مِّنَ ٱلۡعِلۡمِۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعۡلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِیلِهِۦ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِمَنِ ٱهۡتَدَىٰ
তাদের জ্ঞানের পরিধি এ পর্যন্তই। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ভাল জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন কে সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে।
আয়াত 31
وَلِلَّهِ مَا فِی ٱلسَّمَـٰوَ ٰ⁠تِ وَمَا فِی ٱلۡأَرۡضِ لِیَجۡزِیَ ٱلَّذِینَ أَسَـٰۤـُٔوا۟ بِمَا عَمِلُوا۟ وَیَجۡزِیَ ٱلَّذِینَ أَحۡسَنُوا۟ بِٱلۡحُسۡنَى
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর, যাতে তিনি মন্দকর্মীদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেন এবং সৎকর্মীদেরকে দেন ভাল ফল।
আয়াত 32
ٱلَّذِینَ یَجۡتَنِبُونَ كَبَـٰۤىِٕرَ ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡفَوَ ٰ⁠حِشَ إِلَّا ٱللَّمَمَۚ إِنَّ رَبَّكَ وَ ٰ⁠سِعُ ٱلۡمَغۡفِرَةِۚ هُوَ أَعۡلَمُ بِكُمۡ إِذۡ أَنشَأَكُم مِّنَ ٱلۡأَرۡضِ وَإِذۡ أَنتُمۡ أَجِنَّةࣱ فِی بُطُونِ أُمَّهَـٰتِكُمۡۖ فَلَا تُزَكُّوۤا۟ أَنفُسَكُمۡۖ هُوَ أَعۡلَمُ بِمَنِ ٱتَّقَىٰۤ
যারা বড় বড় গোনাহ ও অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাট অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা সুদূর বিস্তৃত। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভাল জানেন, যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব তোমরা আত্নপ্রশংসা করো না। তিনি ভাল জানেন কে সংযমী।
আয়াত 33
أَفَرَءَیۡتَ ٱلَّذِی تَوَلَّىٰ
আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
আয়াত 34
وَأَعۡطَىٰ قَلِیلࣰا وَأَكۡدَىٰۤ
এবং দেয় সামান্যই ও পাষাণ হয়ে যায়।
আয়াত 35
أَعِندَهُۥ عِلۡمُ ٱلۡغَیۡبِ فَهُوَ یَرَىٰۤ
তার কাছে কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে দেখে?
আয়াত 36
أَمۡ لَمۡ یُنَبَّأۡ بِمَا فِی صُحُفِ مُوسَىٰ
তাকে কি জানানো হয়নি যা আছে মূসার কিতাবে,
আয়াত 37
وَإِبۡرَ ٰ⁠هِیمَ ٱلَّذِی وَفَّىٰۤ
এবং ইব্রাহীমের কিতাবে, যে তার দায়িত্ব পালন করেছিল?
আয়াত 38
أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةࣱ وِزۡرَ أُخۡرَىٰ
কিতাবে এই আছে যে, কোন ব্যক্তি কারও গোনাহ নিজে বহন করবে না।
আয়াত 39
وَأَن لَّیۡسَ لِلۡإِنسَـٰنِ إِلَّا مَا سَعَىٰ
এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে,
আয়াত 40
وَأَنَّ سَعۡیَهُۥ سَوۡفَ یُرَىٰ
তার কর্ম শীঘ্রই দেখা হবে।
আয়াত 41
ثُمَّ یُجۡزَىٰهُ ٱلۡجَزَاۤءَ ٱلۡأَوۡفَىٰ
অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে।
আয়াত 42
وَأَنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلۡمُنتَهَىٰ
তোমার পালনকর্তার কাছে সবকিছুর সমাপ্তি,
আয়াত 43
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَضۡحَكَ وَأَبۡكَىٰ
এবং তিনিই হাসান ও কাঁদান
আয়াত 44
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَمَاتَ وَأَحۡیَا
এবং তিনিই মারেন ও বাঁচান,
আয়াত 45
وَأَنَّهُۥ خَلَقَ ٱلزَّوۡجَیۡنِ ٱلذَّكَرَ وَٱلۡأُنثَىٰ
এবং তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল-পুরুষ ও নারী।
আয়াত 46
مِن نُّطۡفَةٍ إِذَا تُمۡنَىٰ
একবিন্দু বীর্য থেকে যখন স্খলিত করা হয়।
আয়াত 47
وَأَنَّ عَلَیۡهِ ٱلنَّشۡأَةَ ٱلۡأُخۡرَىٰ
পুনরুত্থানের দায়িত্ব তাঁরই,
আয়াত 48
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَغۡنَىٰ وَأَقۡنَىٰ
এবং তিনিই ধনবান করেন ও সম্পদ দান করেন।
আয়াত 49
وَأَنَّهُۥ هُوَ رَبُّ ٱلشِّعۡرَىٰ
তিনি শিরা নক্ষত্রের মালিক।
আয়াত 50
وَأَنَّهُۥۤ أَهۡلَكَ عَادًا ٱلۡأُولَىٰ
তিনিই প্রথম আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছেন,
আয়াত 51
وَثَمُودَا۟ فَمَاۤ أَبۡقَىٰ
এবং সামুদকেও; অতঃপর কাউকে অব্যহতি দেননি।
আয়াত 52
وَقَوۡمَ نُوحࣲ مِّن قَبۡلُۖ إِنَّهُمۡ كَانُوا۟ هُمۡ أَظۡلَمَ وَأَطۡغَىٰ
এবং তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে, তারা ছিল আরও জালেম ও অবাধ্য।
আয়াত 53
وَٱلۡمُؤۡتَفِكَةَ أَهۡوَىٰ
তিনিই জনপদকে শুন্যে উত্তোলন করে নিক্ষেপ করেছেন।
আয়াত 54
فَغَشَّىٰهَا مَا غَشَّىٰ
অতঃপর তাকে আচ্ছন্ন করে নেয় যা আচ্ছন্ন করার।
আয়াত 55
فَبِأَیِّ ءَالَاۤءِ رَبِّكَ تَتَمَارَىٰ
অতঃপর তুমি তোমার পালনকর্তার কোন অনুগ্রহকে মিথ্যা বলবে?
আয়াত 56
هَـٰذَا نَذِیرࣱ مِّنَ ٱلنُّذُرِ ٱلۡأُولَىٰۤ
অতীতের সতর্ককারীদের মধ্যে সে-ও একজন সতর্ককারী।
আয়াত 57
أَزِفَتِ ٱلۡـَٔازِفَةُ
কেয়ামত নিকটে এসে গেছে।
আয়াত 58
لَیۡسَ لَهَا مِن دُونِ ٱللَّهِ كَاشِفَةٌ
আল্লাহ ব্যতীত কেউ একে প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
আয়াত 59
أَفَمِنۡ هَـٰذَا ٱلۡحَدِیثِ تَعۡجَبُونَ
তোমরা কি এই বিষয়ে আশ্চর্যবোধ করছ?
আয়াত 60
وَتَضۡحَكُونَ وَلَا تَبۡكُونَ
এবং হাসছ-ক্রন্দন করছ না?
আয়াত 61
وَأَنتُمۡ سَـٰمِدُونَ
তোমরা ক্রীড়া-কৌতুক করছ,
আয়াত 62
فَٱسۡجُدُوا۟ لِلَّهِ وَٱعۡبُدُوا۟ ۩
অতএব আল্লাহকে সেজদা কর এবং তাঁর এবাদত কর।
অডিও প্লেয়ার