📖 সূরা ভিউ
Al-Haaqqa سُورَةُ الحَاقَّةِ
এই সূরার সকল আয়াত বাংলা অর্থসহ নিচে দেখানো হলো
আয়াত 1
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَـٰنِ ٱلرَّحِیمِ ٱلۡحَاۤقَّةُ
সুনিশ্চিত বিষয়।
আয়াত 2
مَا ٱلۡحَاۤقَّةُ
সুনিশ্চিত বিষয় কি?
আয়াত 3
وَمَاۤ أَدۡرَىٰكَ مَا ٱلۡحَاۤقَّةُ
আপনি কি কিছু জানেন, সেই সুনিশ্চিত বিষয় কি?
আয়াত 4
كَذَّبَتۡ ثَمُودُ وَعَادُۢ بِٱلۡقَارِعَةِ
আদ ও সামুদ গোত্র মহাপ্রলয়কে মিথ্যা বলেছিল।
আয়াত 5
فَأَمَّا ثَمُودُ فَأُهۡلِكُوا۟ بِٱلطَّاغِیَةِ
অতঃপর সমুদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দ্বারা।
আয়াত 6
وَأَمَّا عَادࣱ فَأُهۡلِكُوا۟ بِرِیحࣲ صَرۡصَرٍ عَاتِیَةࣲ
এবং আদ গোত্রকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝঞ্জাবায়ূ,
আয়াত 7
سَخَّرَهَا عَلَیۡهِمۡ سَبۡعَ لَیَالࣲ وَثَمَـٰنِیَةَ أَیَّامٍ حُسُومࣰاۖ فَتَرَى ٱلۡقَوۡمَ فِیهَا صَرۡعَىٰ كَأَنَّهُمۡ أَعۡجَازُ نَخۡلٍ خَاوِیَةࣲ
যা তিনি প্রবাহিত করেছিলেন তাদের উপর সাত রাত্রি ও আট দিবস পর্যন্ত অবিরাম। আপনি তাদেরকে দেখতেন যে, তারা অসার খর্জুর কান্ডের ন্যায় ভূপাতিত হয়ে রয়েছে।
আয়াত 8
فَهَلۡ تَرَىٰ لَهُم مِّنۢ بَاقِیَةࣲ
আপনি তাদের কোন অস্তিত্ব দেখতে পান কি?
আয়াত 9
وَجَاۤءَ فِرۡعَوۡنُ وَمَن قَبۡلَهُۥ وَٱلۡمُؤۡتَفِكَـٰتُ بِٱلۡخَاطِئَةِ
ফেরাউন, তাঁর পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে যাওয়া বস্তিবাসীরা গুরুতর পাপ করেছিল।
আয়াত 10
فَعَصَوۡا۟ رَسُولَ رَبِّهِمۡ فَأَخَذَهُمۡ أَخۡذَةࣰ رَّابِیَةً
তারা তাদের পালনকর্তার রসূলকে অমান্য করেছিল। ফলে তিনি তাদেরকে কঠোরহস্তে পাকড়াও করলেন।
আয়াত 11
إِنَّا لَمَّا طَغَا ٱلۡمَاۤءُ حَمَلۡنَـٰكُمۡ فِی ٱلۡجَارِیَةِ
যখন জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল, তখন আমি তোমাদেরকে চলন্ত নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম।
আয়াত 12
لِنَجۡعَلَهَا لَكُمۡ تَذۡكِرَةࣰ وَتَعِیَهَاۤ أُذُنࣱ وَ ٰعِیَةࣱ
যাতে এ ঘটনা তোমাদের জন্যে স্মৃতির বিষয় এবং কান এটাকে উপদেশ গ্রহণের উপযোগী রূপে গ্রহণ করে।
আয়াত 13
فَإِذَا نُفِخَ فِی ٱلصُّورِ نَفۡخَةࣱ وَ ٰحِدَةࣱ
যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে-একটি মাত্র ফুৎকার
আয়াত 14
وَحُمِلَتِ ٱلۡأَرۡضُ وَٱلۡجِبَالُ فَدُكَّتَا دَكَّةࣰ وَ ٰحِدَةࣰ
এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দেয়া হবে,
আয়াত 15
فَیَوۡمَىِٕذࣲ وَقَعَتِ ٱلۡوَاقِعَةُ
সেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে।
আয়াত 16
وَٱنشَقَّتِ ٱلسَّمَاۤءُ فَهِیَ یَوۡمَىِٕذࣲ وَاهِیَةࣱ
সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে।
আয়াত 17
وَٱلۡمَلَكُ عَلَىٰۤ أَرۡجَاۤىِٕهَاۚ وَیَحۡمِلُ عَرۡشَ رَبِّكَ فَوۡقَهُمۡ یَوۡمَىِٕذࣲ ثَمَـٰنِیَةࣱ
এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।
আয়াত 18
یَوۡمَىِٕذࣲ تُعۡرَضُونَ لَا تَخۡفَىٰ مِنكُمۡ خَافِیَةࣱ
সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না।
আয়াত 19
فَأَمَّا مَنۡ أُوتِیَ كِتَـٰبَهُۥ بِیَمِینِهِۦ فَیَقُولُ هَاۤؤُمُ ٱقۡرَءُوا۟ كِتَـٰبِیَهۡ
অতঃপর যার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ নাও, তোমরাও আমলনামা পড়ে দেখ।
আয়াত 20
إِنِّی ظَنَنتُ أَنِّی مُلَـٰقٍ حِسَابِیَهۡ
আমি জানতাম যে, আমাকে হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।
আয়াত 21
فَهُوَ فِی عِیشَةࣲ رَّاضِیَةࣲ
অতঃপর সে সুখী জীবন-যাপন করবে,
আয়াত 22
فِی جَنَّةٍ عَالِیَةࣲ
সুউচ্চ জান্নাতে।
আয়াত 23
قُطُوفُهَا دَانِیَةࣱ
তার ফলসমূহ অবনমিত থাকবে।
আয়াত 24
كُلُوا۟ وَٱشۡرَبُوا۟ هَنِیۤـَٔۢا بِمَاۤ أَسۡلَفۡتُمۡ فِی ٱلۡأَیَّامِ ٱلۡخَالِیَةِ
বিগত দিনে তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে, তার প্রতিদানে তোমরা খাও এবং পান কর তৃপ্তি সহকারে।
আয়াত 25
وَأَمَّا مَنۡ أُوتِیَ كِتَـٰبَهُۥ بِشِمَالِهِۦ فَیَقُولُ یَـٰلَیۡتَنِی لَمۡ أُوتَ كِتَـٰبِیَهۡ
যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ হায় আমায় যদি আমার আমল নামা না দেয়া হতো।
আয়াত 26
وَلَمۡ أَدۡرِ مَا حِسَابِیَهۡ
আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব!
আয়াত 27
یَـٰلَیۡتَهَا كَانَتِ ٱلۡقَاضِیَةَ
হায়, আমার মৃত্যুই যদি শেষ হত।
আয়াত 28
مَاۤ أَغۡنَىٰ عَنِّی مَالِیَهۡۜ
আমার ধন-সম্পদ আমার কোন উপকারে আসল না।
আয়াত 29
هَلَكَ عَنِّی سُلۡطَـٰنِیَهۡ
আমার ক্ষমতাও বরবাদ হয়ে গেল।
আয়াত 30
خُذُوهُ فَغُلُّوهُ
ফেরেশতাদেরকে বলা হবেঃ ধর একে গলায় বেড়ি পড়িয়ে দাও,
আয়াত 31
ثُمَّ ٱلۡجَحِیمَ صَلُّوهُ
অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে।
আয়াত 32
ثُمَّ فِی سِلۡسِلَةࣲ ذَرۡعُهَا سَبۡعُونَ ذِرَاعࣰا فَٱسۡلُكُوهُ
অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত কর সত্তর গজ দীর্ঘ এক শিকলে।
আয়াত 33
إِنَّهُۥ كَانَ لَا یُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ ٱلۡعَظِیمِ
নিশ্চয় সে মহান আল্লাহতে বিশ্বাসী ছিল না।
আয়াত 34
وَلَا یَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلۡمِسۡكِینِ
এবং মিসকীনকে আহার্য দিতে উৎসাহিত করত না।
আয়াত 35
فَلَیۡسَ لَهُ ٱلۡیَوۡمَ هَـٰهُنَا حَمِیمࣱ
অতএব, আজকের দিন এখানে তার কোন সুহূদ নাই।
আয়াত 36
وَلَا طَعَامٌ إِلَّا مِنۡ غِسۡلِینࣲ
এবং কোন খাদ্য নাই, ক্ষত-নিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত।
আয়াত 37
لَّا یَأۡكُلُهُۥۤ إِلَّا ٱلۡخَـٰطِـُٔونَ
গোনাহগার ব্যতীত কেউ এটা খাবে না।
আয়াত 38
فَلَاۤ أُقۡسِمُ بِمَا تُبۡصِرُونَ
তোমরা যা দেখ, আমি তার শপথ করছি।
আয়াত 39
وَمَا لَا تُبۡصِرُونَ
এবং যা তোমরা দেখ না, তার-
আয়াত 40
إِنَّهُۥ لَقَوۡلُ رَسُولࣲ كَرِیمࣲ
নিশ্চয়ই এই কোরআন একজন সম্মানিত রসূলের আনীত।
আয়াত 41
وَمَا هُوَ بِقَوۡلِ شَاعِرࣲۚ قَلِیلࣰا مَّا تُؤۡمِنُونَ
এবং এটা কোন কবির কালাম নয়; তোমরা কমই বিশ্বাস কর।
আয়াত 42
وَلَا بِقَوۡلِ كَاهِنࣲۚ قَلِیلࣰا مَّا تَذَكَّرُونَ
এবং এটা কোন অতীন্দ্রিয়বাদীর কথা নয়; তোমরা কমই অনুধাবন কর।
আয়াত 43
تَنزِیلࣱ مِّن رَّبِّ ٱلۡعَـٰلَمِینَ
এটা বিশ্বপালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ।
আয়াত 44
وَلَوۡ تَقَوَّلَ عَلَیۡنَا بَعۡضَ ٱلۡأَقَاوِیلِ
সে যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করত,
আয়াত 45
لَأَخَذۡنَا مِنۡهُ بِٱلۡیَمِینِ
তবে আমি তার দক্ষিণ হস্ত ধরে ফেলতাম,
আয়াত 46
ثُمَّ لَقَطَعۡنَا مِنۡهُ ٱلۡوَتِینَ
অতঃপর কেটে দিতাম তার গ্রীবা।
আয়াত 47
فَمَا مِنكُم مِّنۡ أَحَدٍ عَنۡهُ حَـٰجِزِینَ
তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না।
আয়াত 48
وَإِنَّهُۥ لَتَذۡكِرَةࣱ لِّلۡمُتَّقِینَ
এটা খোদাভীরুদের জন্যে অবশ্যই একটি উপদেশ।
আয়াত 49
وَإِنَّا لَنَعۡلَمُ أَنَّ مِنكُم مُّكَذِّبِینَ
আমি জানি যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মিথ্যারোপ করবে।
আয়াত 50
وَإِنَّهُۥ لَحَسۡرَةٌ عَلَى ٱلۡكَـٰفِرِینَ
নিশ্চয় এটা কাফেরদের জন্যে অনুতাপের কারণ।
আয়াত 51
وَإِنَّهُۥ لَحَقُّ ٱلۡیَقِینِ
নিশ্চয় এটা নিশ্চিত সত্য।
আয়াত 52
فَسَبِّحۡ بِٱسۡمِ رَبِّكَ ٱلۡعَظِیمِ
অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ননা করুন।