📖 সূরা ভিউ
Al-Muddaththir سُورَةُ المُدَّثِّرِ
এই সূরার সকল আয়াত বাংলা অর্থসহ নিচে দেখানো হলো
আয়াত 1
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَـٰنِ ٱلرَّحِیمِ یَـٰۤأَیُّهَا ٱلۡمُدَّثِّرُ
হে চাদরাবৃত!
আয়াত 2
قُمۡ فَأَنذِرۡ
উঠুন, সতর্ক করুন,
আয়াত 3
وَرَبَّكَ فَكَبِّرۡ
আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষনা করুন,
আয়াত 4
وَثِیَابَكَ فَطَهِّرۡ
আপন পোশাক পবিত্র করুন
আয়াত 5
وَٱلرُّجۡزَ فَٱهۡجُرۡ
এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন।
আয়াত 6
وَلَا تَمۡنُن تَسۡتَكۡثِرُ
অধিক প্রতিদানের আশায় অন্যকে কিছু দিবেন না।
আয়াত 7
وَلِرَبِّكَ فَٱصۡبِرۡ
এবং আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে সবর করুন।
আয়াত 8
فَإِذَا نُقِرَ فِی ٱلنَّاقُورِ
যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে;
আয়াত 9
فَذَ ٰلِكَ یَوۡمَىِٕذࣲ یَوۡمٌ عَسِیرٌ
সেদিন হবে কঠিন দিন,
আয়াত 10
عَلَى ٱلۡكَـٰفِرِینَ غَیۡرُ یَسِیرࣲ
কাফেরদের জন্যে এটা সহজ নয়।
আয়াত 11
ذَرۡنِی وَمَنۡ خَلَقۡتُ وَحِیدࣰا
যাকে আমি অনন্য করে সৃষ্টি করেছি, তাকে আমার হাতে ছেড়ে দিন।
আয়াত 12
وَجَعَلۡتُ لَهُۥ مَالࣰا مَّمۡدُودࣰا
আমি তাকে বিপুল ধন-সম্পদ দিয়েছি।
আয়াত 13
وَبَنِینَ شُهُودࣰا
এবং সদা সংগী পুত্রবর্গ দিয়েছি,
আয়াত 14
وَمَهَّدتُّ لَهُۥ تَمۡهِیدࣰا
এবং তাকে খুব সচ্ছলতা দিয়েছি।
আয়াত 15
ثُمَّ یَطۡمَعُ أَنۡ أَزِیدَ
এরপরও সে আশা করে যে, আমি তাকে আরও বেশী দেই।
আয়াত 16
كَلَّاۤۖ إِنَّهُۥ كَانَ لِـَٔایَـٰتِنَا عَنِیدࣰا
কখনই নয়! সে আমার নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধাচরণকারী।
আয়াত 17
سَأُرۡهِقُهُۥ صَعُودًا
আমি সত্ত্বরই তাকে শাস্তির পাহাড়ে আরোহণ করাব।
আয়াত 18
إِنَّهُۥ فَكَّرَ وَقَدَّرَ
সে চিন্তা করেছে এবং মনঃস্থির করেছে,
আয়াত 19
فَقُتِلَ كَیۡفَ قَدَّرَ
ধ্বংস হোক সে, কিরূপে সে মনঃস্থির করেছে!
আয়াত 20
ثُمَّ قُتِلَ كَیۡفَ قَدَّرَ
আবার ধ্বংস হোক সে, কিরূপে সে মনঃস্থির করেছে!
আয়াত 21
ثُمَّ نَظَرَ
সে আবার দৃষ্টিপাত করেছে,
আয়াত 22
ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ
অতঃপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করেছে ও মুখ বিকৃত করেছে,
আয়াত 23
ثُمَّ أَدۡبَرَ وَٱسۡتَكۡبَرَ
অতঃপর পৃষ্ঠপ্রদশন করেছে ও অহংকার করেছে।
আয়াত 24
فَقَالَ إِنۡ هَـٰذَاۤ إِلَّا سِحۡرࣱ یُؤۡثَرُ
এরপর বলেছেঃ এতো লোক পরস্পরায় প্রাপ্ত জাদু বৈ নয়,
আয়াত 25
إِنۡ هَـٰذَاۤ إِلَّا قَوۡلُ ٱلۡبَشَرِ
এতো মানুষের উক্তি বৈ নয়।
আয়াত 26
سَأُصۡلِیهِ سَقَرَ
আমি তাকে দাখিল করব অগ্নিতে।
আয়াত 27
وَمَاۤ أَدۡرَىٰكَ مَا سَقَرُ
আপনি কি বুঝলেন অগ্নি কি?
আয়াত 28
لَا تُبۡقِی وَلَا تَذَرُ
এটা অক্ষত রাখবে না এবং ছাড়বেও না।
আয়াত 29
لَوَّاحَةࣱ لِّلۡبَشَرِ
মানুষকে দগ্ধ করবে।
আয়াত 30
عَلَیۡهَا تِسۡعَةَ عَشَرَ
এর উপর নিয়োজিত আছে উনিশ (ফেরেশতা)।
আয়াত 31
وَمَا جَعَلۡنَاۤ أَصۡحَـٰبَ ٱلنَّارِ إِلَّا مَلَـٰۤىِٕكَةࣰۖ وَمَا جَعَلۡنَا عِدَّتَهُمۡ إِلَّا فِتۡنَةࣰ لِّلَّذِینَ كَفَرُوا۟ لِیَسۡتَیۡقِنَ ٱلَّذِینَ أُوتُوا۟ ٱلۡكِتَـٰبَ وَیَزۡدَادَ ٱلَّذِینَ ءَامَنُوۤا۟ إِیمَـٰنࣰا وَلَا یَرۡتَابَ ٱلَّذِینَ أُوتُوا۟ ٱلۡكِتَـٰبَ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَلِیَقُولَ ٱلَّذِینَ فِی قُلُوبِهِم مَّرَضࣱ وَٱلۡكَـٰفِرُونَ مَاذَاۤ أَرَادَ ٱللَّهُ بِهَـٰذَا مَثَلࣰاۚ كَذَ ٰلِكَ یُضِلُّ ٱللَّهُ مَن یَشَاۤءُ وَیَهۡدِی مَن یَشَاۤءُۚ وَمَا یَعۡلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَۚ وَمَا هِیَ إِلَّا ذِكۡرَىٰ لِلۡبَشَرِ
আমি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতাই রেখেছি। আমি কাফেরদেরকে পরীক্ষা করার জন্যেই তার এই সংখ্যা করেছি-যাতে কিতাবীরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়, মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবীরা ও মুমিনগণ সন্দেহ পোষণ না করে এবং যাতে যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা এবং কাফেররা বলে যে, আল্লাহ এর দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছেন। এমনিভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে চালান। আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন এটা তো মানুষের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।
আয়াত 32
كَلَّا وَٱلۡقَمَرِ
কখনই নয়। চন্দ্রের শপথ,
আয়াত 33
وَٱلَّیۡلِ إِذۡ أَدۡبَرَ
শপথ রাত্রির যখন তার অবসান হয়,
আয়াত 34
وَٱلصُّبۡحِ إِذَاۤ أَسۡفَرَ
শপথ প্রভাতকালের যখন তা আলোকোদ্ভাসিত হয়,
আয়াত 35
إِنَّهَا لَإِحۡدَى ٱلۡكُبَرِ
নিশ্চয় জাহান্নাম গুরুতর বিপদসমূহের অন্যতম,
আয়াত 36
نَذِیرࣰا لِّلۡبَشَرِ
মানুষের জন্যে সতর্ককারী।
আয়াত 37
لِمَن شَاۤءَ مِنكُمۡ أَن یَتَقَدَّمَ أَوۡ یَتَأَخَّرَ
তোমাদের মধ্যে যে সামনে অগ্রসর হয় অথবা পশ্চাতে থাকে।
আয়াত 38
كُلُّ نَفۡسِۭ بِمَا كَسَبَتۡ رَهِینَةٌ
প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী;
আয়াত 39
إِلَّاۤ أَصۡحَـٰبَ ٱلۡیَمِینِ
কিন্তু ডানদিকস্থরা,
আয়াত 40
فِی جَنَّـٰتࣲ یَتَسَاۤءَلُونَ
তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
আয়াত 41
عَنِ ٱلۡمُجۡرِمِینَ
অপরাধীদের সম্পর্কে
আয়াত 42
مَا سَلَكَكُمۡ فِی سَقَرَ
বলবেঃ তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নীত করেছে?
আয়াত 43
قَالُوا۟ لَمۡ نَكُ مِنَ ٱلۡمُصَلِّینَ
তারা বলবেঃ আমরা নামায পড়তাম না,
আয়াত 44
وَلَمۡ نَكُ نُطۡعِمُ ٱلۡمِسۡكِینَ
অভাবগ্রস্তকে আহার্য্য দিতাম না,
আয়াত 45
وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ ٱلۡخَاۤىِٕضِینَ
আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম।
আয়াত 46
وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِیَوۡمِ ٱلدِّینِ
এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম।
আয়াত 47
حَتَّىٰۤ أَتَىٰنَا ٱلۡیَقِینُ
আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত।
আয়াত 48
فَمَا تَنفَعُهُمۡ شَفَـٰعَةُ ٱلشَّـٰفِعِینَ
অতএব, সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকারে আসবে না।
আয়াত 49
فَمَا لَهُمۡ عَنِ ٱلتَّذۡكِرَةِ مُعۡرِضِینَ
তাদের কি হল যে, তারা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়?
আয়াত 50
كَأَنَّهُمۡ حُمُرࣱ مُّسۡتَنفِرَةࣱ
যেন তারা ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত গর্দভ।
আয়াত 51
فَرَّتۡ مِن قَسۡوَرَةِۭ
হট্টগোলের কারণে পলায়নপর।
আয়াত 52
بَلۡ یُرِیدُ كُلُّ ٱمۡرِئࣲ مِّنۡهُمۡ أَن یُؤۡتَىٰ صُحُفࣰا مُّنَشَّرَةࣰ
বরং তাদের প্রত্যেকেই চায় তাদের প্রত্যেককে একটি উম্মুক্ত গ্রন্থ দেয়া হোক।
আয়াত 53
كَلَّاۖ بَل لَّا یَخَافُونَ ٱلۡـَٔاخِرَةَ
কখনও না, বরং তারা পরকালকে ভয় করে না।
আয়াত 54
كَلَّاۤ إِنَّهُۥ تَذۡكِرَةࣱ
কখনও না, এটা তো উপদেশ মাত্র।
আয়াত 55
فَمَن شَاۤءَ ذَكَرَهُۥ
অতএব, যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক।
আয়াত 56
وَمَا یَذۡكُرُونَ إِلَّاۤ أَن یَشَاۤءَ ٱللَّهُۚ هُوَ أَهۡلُ ٱلتَّقۡوَىٰ وَأَهۡلُ ٱلۡمَغۡفِرَةِ
তারা স্মরণ করবে না, কিন্তু যদি আল্লাহ চান। তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী।